মুনি-ঋষিদের নিয়ে বিস্তারিত

0

মুনি ও ঋষি পার্থক্য

মুনি ঋষিরা ছিলেন বৈদিক যুগের শিক্ষক । বৈদিক  জ্ঞান-বিজ্ঞানের উদ্ভাবক ছিলেন এই মুনি-ঋষিরা । 

হিন্দুধর্মের মুনি-ঋষিদের নিয়ে বিস্তারিত

তাই অনেক হিন্দুই মুনি-ঋষিদের নিয়ে জানার ইচ্ছা পোষণ  করেন । কিন্তু অনেক জানার পরেও রয়ে যায় একটি জটিল প্রশ্ন । সেটি হলো, মুনি কাদের বলে আর ঋষিই বা কাদের বলে ? তাই আজকে মুনি-ঋষিদের নিয়ে আপনাদের সকল সংশয় দূর করার চেষ্টা করবো । 


মুনি কাকে বলে ?

বৈদিক যুগে ধার্মিক লোকের কোন অভাব ছিল না । তাদের মধ্যে অনেকেই ঈশ্বর ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে গভীর অরণ্যে তপস্যা করতেন । এই মহাত্মাগণ তাদের তপস্যার বলে সমস্ত লোভ-লালসা ত্যাগ করেছিলেন । এই মহাত্মাদিগদের বলা হতো মুনি । 

ঋষি কাকে বলে ?

যেইসব মুনি তপস্যাবলে বেদের মন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন, তাদের বলা হতো ঋষি । সুতরাং এখান থেকে এটি অবশ্যই বোঝা যায় যে, সব ঋষিই মুনি কিন্তু সকল মুনি ঋষি নয় । মুনির স্থান অতিক্রম করেই ঋষির স্থানে অধিষ্ঠিত হতে হয় । এজন্য ঋষিরা ছিলেন মুনিদের থেকে উচ্চস্তরের । এখানে কয়েকজন ঋষির নাম উল্লেখ করছি : গার্গী, লোপামুদ্রা, কশ্যপ, বশিষ্ট, বিশ্বামিত্র, গৌতম, কণ্ব, বিশ্ববালা প্রভৃতি ৷ 


ঋষিদের সাতটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে । যথা : ব্রহ্মর্ষি, মহর্ষি, দেবর্ষি, কান্ডর্ষি, রাজর্ষি, পরমর্ষি ও শ্রুতর্ষি ।

ব্রহ্মর্ষি

ব্রহ্ম বা ঈশ্বর সম্পর্কে যেসব ঋষিদের বিশেষ জ্ঞান ছিল, তাদের বলা হতো ব্রহ্মর্ষি । যেমন : বশিষ্ট

মহর্ষি

ঋষিদের মধ্যে যারা মহান ও প্রধান ছিলেন তাদের বলা হতো মহর্ষি = মহা + ঋষি । যেমন : কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস (বেদকে চার ভাগে বিভক্ত এবং মহাভারত রচনা করেছিলেন যিনি )

দেবর্ষি

দেবতা হয়েও যারা ঋষি ছিলেন তাদের বলা হতো দেবর্ষী = দেবতা + ঋষি । যেমন : নারদ । 

কান্ডর্ষি

বেদের রয়েছে দুইটি কান্ড (জ্ঞানকান্ড ও কর্মকান্ড) এর মধ্যে যে কোন একটির বিষয়ে যাদের বিশেষ জ্ঞান ছিল তাদের বলা হতো কান্ডর্ষি । যেমন : জৈমিনি । 

রাজর্ষি

রাজা হয়েও যিনি ঋষি বা ঋষির মতো আচরন করেন তাকে বলা হতো রাজর্ষি । যেমন : রাজা জনক (মাতা সীতার পিতা)

পরমর্ষি

পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বরকে যিনি দর্শন করেছেন তাকে বলা হতো পরমর্ষি । যেমন : পৈল । 

শ্রুতর্ষি

যেসব ঋষিগণ শুনে শুনে বেদ মন্ত্র লাভ করেছিলেন তাদের বলা হতো শ্রুতর্ষি । যেমন :  সুশ্রুত (বিশ্বামিত্রের পুত্র এবং বিশ্ব বিদিত চিকিৎসাশাস্ত্র সুশ্রুতসংহিতা রচনাকারী) ।


হিন্দুধর্মের সকল মুণি-ঋষিদের নাম

মনু, ভৃগু, বশিষ্ট, বামদেব, বিশ্বামিত্র, ভরদ্বাজ, কণ্ব, অঙ্গিরা, পাতঞ্জল, যাজ্ঞবল্ক্য, কষ্কীবান, শুনঃশেপ, কুৎস, পুরুকুৎস, ত্রসদস্যু, ভৌম, ত্রবজামরুৎ, বৈশম্পায়ন, অথর্বা, দধীচি, কৃষ্ণ, আপ্তত্রিত, গৃৎসমদ, রাতহব্য, গৌতম, চ্যবন, অগস্ত,

পৌর, শ্রুতবিদ, মধুচ্ছদা, জেতৃ, মেধাতিথি, অর্চনানা, অজীগর্ত্ত, হিরণ্যস্তুপ, ঘোর, যজত, প্রস্বম্ব, সব্য, নোধা, শক্তি, পরাশর, সপ্তবধ্রি, রহুগণ, দীর্ঘতমা, দিবোদাস, পুরুচ্ছেদ, উচথ্য, উরুচক্রি, সোমাহুতি, উৎকীল, বাহুবৃক্ত, কুশিক, গাধী, ইষীরখ, বুধ, গবিষ্টি, বসুশ্রুত, ইষ, গয়, সুতম্ভর, সত্যশ্রবা, ধরুণ, মৃক্তবাহ, দ্বিত, বব্রি, প্রযস্বস্বৎ, বিশ্বসামা, দুম্ন, বসুযু, গোপায়ন, পুরুকুৎসা, লোপায়ন,

লোপামুদ্রা, সুবন্ধু, শ্রুতবন্ধু, বিপ্রবন্ধু, ত্রিকৃষ্ণ, ত্র‍্যরুণ, ভরত, গৌরিবীতি, বক্র, অষ্টবক্র, অবস্যু, গাতু, সম্বরণ, স্বস্তি, প্রভুবসু, কশ্যপ, সাদাপৃণ, প্রতিবথ, প্রতিক্ষত্র, প্রতিভানু, শ্যাবাশ্ব, ঘোষা, অপালা, বিশ্ববারা, ভারতী, গার্গী, বীতহব্য, কৃতযশা, দক্ষিণা, ব্রহ্মজায়া, মৈত্রেয়ী, সরমা, সুহোত্র,

শুনহোত্র, নর, শুংযু, ঋজিশ্বা, প্রিয়মেধ, সধ্বংসাখ্যা, কপিল, কনাদ, অন্ধ, বৎস, নীপাতিথী, নারদ, সুদিতি, উশনা, ত্রিশোক, দূষ্মীক, ত্রিত, নাভাক, সোভরি, নৃমেধ,

অগস্তি, জৈমিন, দার্ঢ়াচ্যুত, ইম্ববাহ, অগ্নিবৈশ্য, বার্হস্পত্য, অত্রি, আত্রেয়, শাতাতপ, অনাবৃকাক্ষ, গার্গ্য, অব্য, সারস্বত, সাংখ্য, আলম্বায়ন, আস্তিক, দেবল, দুর্বাসা, ভূধর, বাল্মীকি, বৈশ্বানর, মার্কন্ডেয়, জমদগ্নি, প্রজাপতি ইত্যাদি । 


আশা করি আপনাদের সকল সংশয় দূরীভূত করতে পেরেছি ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
To Top