আজকে পবিত্র জন্মাষ্টমী

0
আজকে পবিত্র জন্মাষ্টমী

শুভ জন্মাষ্টমী

আজ বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি। 

আজ থেকে ৫২৪৯ বছর আগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথির বুধবার রাতে মথুরায় কংসের কারাগারে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়। পিতা বসুদেব সদ্যজাত সন্তানকে বৃন্দাবনের গোকুলে যশোদার এর কাছে রেখে আসেন। 

মা যশোদার স্নেহ আদর ভালবাসায় বাসুদেব কৃষ্ণের বাল্যকাল অতিবাহিত হয়। বাল্যকালেই তিনি অনেক চমৎকারিত্ব দেখিয়েছেন, পুতনা হতে নিজেকে রক্ষা করেছেন, কালীয় নাগকে শাস্তি দিয়েছেন। এছাড়াও বাল্যকালেই তার প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়, তার বিভিন্ন কার্যাবলীতে। বৃন্দাবনে বাসুদেব কৃষ্ণ বড় হচ্ছিলেন গো- পালক গোষ্ঠির সঙ্গে।  তাই তিনি নিজেও বাল্যকালে পরিবারকে সহযোগিতার জন্য গো পালন কার্যে পরিবারের সহযোগী ছিলেন। 

বাল্যকাল পেড়িয়ে কৈশরে অবতীর্ন হলে তিনি মথুরায় ফিরে আসেন। আর কখনো বৃন্দাবনে ফিরে যাননি। মথুরায় ফিরে এসে অত্যাচারী রাজা কংসকে বধ করে তার পিতা মাতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেন। এবং মথুরার রাজ সিংহাসনে উগ্রসেনকে অধিষ্ঠিত করেন। কিন্তু তৎকালীন সময়ের পরাক্রমশালী রাজ্য মগধের সম্রাট জরাসন্ধ বারবার মথুরা আক্রমন করতে থাকে। বারবার বাসুদের কৃষ্ণ তা প্রতিহত করেন, কিন্তু এতে সৈন্য ক্ষয়, লোক ক্ষয় হচ্ছিল। এ কারনে তিনি মথুরা ত্যাগ করে আরব সাগরের তীরে দ্বারকায় নতুন রাজ্য স্থাপন করে সকলকে নিয়ে দ্বারকায় চলে আসেন। 


বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ সন্দিপন মুনির থেকে শিক্ষা লাভ করেন। খুব অল্প সময়েই তিনি সর্বশাস্ত্র বিশারদ ও সর্ববেদ এ পারদর্শী হিসেবে স্বীকৃতি পান। তার জ্ঞান, মেধা ও কর্মকান্ডের কথা সমগ্র আর্যাবর্তে চর্চ্চা হতে থাকে।

এরপর তিনি আর্যাবর্তের বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমন করেন। বিদর্ভ রাজার কন্যা রুক্মিনী দেবী তার প্রেমে আসক্ত হোন। পত্র দ্বারা রুক্মিনী দেবী তার ভালবাসার কথা বাসুদেব শ্রী কৃষ্ণকে জানালে, শ্রী কৃষ্ণ তাকে তার পরিবার থেকে কৌশলে বের করে নিয়েে গিয়ে বিয়ে করেন। রুক্মিনী দেবীই ছিলেন বাসুদেব কৃষ্ণের একমাত্র স্ত্রী। রুক্মিনী দেবীর বিবাহ পারিবারিক ভাবে শিশুপালের সাথে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শ্রী কৃষ্ণ কৌশলে বিয়ে করায় শিশুপালের সঙ্গে শ্রী কৃষ্ণের বিরোধ তৈরী হয়। বাসুদেব কৃষ্ণ শিশুপালের মা কে কথা দিয়েছিলেন, তিনি শিশুপালের ১০০ টি অপরাধ ক্ষমা করবেন, কিন্তু কোন এক রাজসভায়, শিশুপাল তার শত অপরাধের সীমা লংঘন করেন, তখন বাসুদেব সুদর্শন চক্রদ্বারা শিশুপালকে বধ করেন। এছাড়াও বাসুদেব কৃষ্ণ বিভিন্ন সময় দুরাচারীদের শস্তি দিয়েছেন। কালযবন নামক এক ডাকাতকে তিনি কৌশলে বধ করেন । 

আর্যাবর্তে তখন বিভিন্ন পারিবারিক বা বংশের ঐতিহ্যগত প্রথাও ধর্মের নামে পালিত হয়ে আসছিল, তিনি এসবের বিরোধিতা করেন। আর্যাবর্তের রাজ্যগুলো বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে ছিল, বাসুদেব কৃষ্ণের ইচ্ছায় এবং কৌশলে, সমগ্র আর্যাবর্ত এক চক্রবর্তী সম্রাটের অধীনে আসে, তখন ভারত বর্ষ এক দেশ, এক রাষ্ট্র, এক আইনের আওতাভুক্ত হয় এবং সেই রাষ্ট্রের সম্রাট হন যুধিষ্ঠীর । 

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তৎকালীন সময়েই সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যাক্তি, অত্যান্ত বলশালী,  সর্ব বেদ এ পারদর্শী হিসেবে পুজীত হতেন। তিনি মানবজাতীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দর্শন, শ্রীমদভাগবত গীতা প্রদান করেছেন । যা সকল উপনিষদের সারমর্ম ।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবন সংগ্রামপূর্ণ । তিনি রাজপরিবারে জন্ম নিলেও বড় হোন এক গোয়ালা পরিবারে, সেখান থেকে মথুরায় ফিরে আসলেও,  জরাসন্ধের অকারন যুদ্ধে লোকের  ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে মথুরা থেকে অনেক দুরে, দ্বারকায় নতুন রাজ্য স্থাপন করেন। তারপর অনেক অত্যাচারীদের বধ করে, সমাজে শান্তি স্থাপন করেন । হস্তিনাপুরে কৌরব ও পান্ডবদের মধ্যকার দ্বন্দে তিনি শ্রেষ্ঠ কুটনৈতিকের ভুমিকা পালন করেন এবং বাস্তবে তার বুদ্ধিমত্তাতেই পান্ডবদের জয় হয় ।  তিনি দেখিয়েছেন চরিত্রের বল এবং শুদ্ধ জ্ঞানের শক্তি কতটা । তার জীবন আদর্শ আমাদের অনুসরনীয় । 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)
To Top