রাশি অনুযায়ী রত্নের মাহাত্ম্য

0
রাশি অনুযায়ী রত্নের মাহাত্ম্য

রাশি অনুযায়ী রত্নের মাহাত্ম্য


জ্যোতিষ মতে নবরত্নের একটি মহত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে । রত্নের দ্বারা অসাধ্য সাধন এবং অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টদায়ক সমস্যা থেকে শীঘ্র অত্যন্ত সহজে মুক্তির উপায় করা যায় । সকল রত্নের মধ্যেই আশ্চর্য দৈবিক ক্ষমতা আছে । রত্নের যে প্রভাব আমাদের উপর পড়ে তা গ্রহের রং ও তার প্রকাশ কিরণের ছটার কারণে । জ্যোতিষীরা প্রয়ােগ ও অনুভবের ও দিব্য দৃষ্টির দ্বারা জেনেছেন কোন গ্রহ কি রঙের কিরণ দেয় এবং সে অনুসারে তারা আলাদা আলাদা গ্রহের জন্য রত্ন নির্ধারণ করেছেন । নির্ধারিত রত্ন মানব শরীরের উপর আশ্চর্য প্রভাব বিস্তার করে । মানব শরীরের উপর কোন গ্রহের হানিকর প্রভাবে উপযুক্ত রত্ন ফলদায়ক হয় ।

কোন রত্ন কতদিন কোন জাতকের শরীরে কাজ করবে ও তারপর কুফল দেবে । সে সম্পর্কে নানা জ্যোতিষীর নানা মত আছে। যে গ্রহের জন্য যে রত্ন নির্ধারিত তা সঠিক সময়ে ও সঠিক বিধি মেনে ধারণ করলে অবশ্যই শুভ ফল পাওয়া যাবে । সঠিক রত্ন ধারণ না করলে তা জাতকের ক্ষতির কারণ হয় । একটি মত অনুসারেগ্র হের দুইটি ভাগ আছে । এক ভাগের নেতা হল সূর্য এবং তার সহযােগী হল চন্দ্র, বৃহস্পতি ও মঙ্গল এবং দ্বিতীয় ভাগের নেতা হল সূর্য পুত্র শনি। তার সহযােগী হল বুধ, শুক্র, রাহু ও কেতু । এই মতানুসারে যে বিভাগের যে গ্রহ লগ্নস্থ আছে সেই গ্রহের রত্ন আবশ্যকতানুসারে ধারণ করা দরকার ।

জন্মকুন্ডলী পরীক্ষার সময় দেখা দরকার যে ঐ কুন্ডলীর গ্রহ কোটি । ঐ অশুভ গ্রহের জন্য রত্ন ধারণের পরামর্শ কখনই দেওয়া উচিত নয় । এর মহাদশা আসলেও । কোন্ রতু কার ধারণ করা উচিত এ সম্পর্কে আগে জানতে হবে ।


মাণিক্য 

মাণিক্য রত্ন সূর্যের রত্ন । যে জাতকের জন্মকুন্ডলীতে সূর্যের শুভভাব আছে, তবে তা বৃদ্ধি করার জন্য মাণিক্য রত্ন ধারণ করলে তা ফলদায়ক হবে ।

যদি সূর্য তৃতীয়, ষষ্ঠ, এগারাের ভাবে থাকে তবে মাণিক্য ধারণে শুভফল পাবে । যদি জন্মকুন্ডলীতে সূর্য লগ্নে থাকে তবে লগ্নের প্রভাব বাড়াতে মাণিক্য ধারণ অষ্টম স্থানে সূর্য থাকলে মাণিক্য ধারণ করা উচিত নয় । সপ্তমভাবে সূর্য থাকলে

গৃহের সুখের জন্য মাণিক্য ধারণ করা দরকার । জন্মকুন্ডলীতে সূর্য পঞ্চম বা নবম স্থানে থাকলে মাণিক্য ধারণ করা দরকার ।

মোতী

মোতী চন্দ্রের রত্ন । যার জন্ম কুন্ডলীতে চন্দ্রের শুভ ভাব আছে তার মােতী ধারণ করা দরকার । যদি চন্দ্র পঞ্চমেশ হয়ে বারাে-র ঘরে থাকে তবুও মােতী ধারণ করা দরকার ।

দ্বিতীয় ঘরে চন্দ্র থাকলে এবং কুন্ডলী যে কোন জায়গায় থাকলে মােতী ধারণ লাভজনক । যদি কেন্দ্রে চন্দ্রের উপস্থিতি হাল্কাভাবের হয় তবে তাকে শক্তিশালী করার জন্য মােতী ধারণ করতে হবে ।

যদি চন্দ্রের উপর রাহু, কেতু বা মঙ্গলের দৃষ্টিপাত পড়ে তবে মােতী ধারণ করা অত্যন্ত লাভদায়ক । যার জন্মকুন্ডলীতে চন্দ্র বৃশ্চিক রাশি থেকে যে কোন জায়গায় স্থিত হয় তবে তাকে অবশ্যই মােতী ধারণ করতে হবে । চন্দ্র যদি নীচ, বক্ৰী রাহুর সাথে বা অষ্টমস্থানে থাকে তবে তাকে মােতী ধারণ করতে হবে ।

যে জাতকের চন্দ্রের অন্তর্দশা চলছে সেই ব্যক্তির মােতী ধারণ করা শুভ ফলদায়ক ।

মুংগা

মুংগা মঙ্গলের রত্ন । যে ব্যক্তির জন্মকুন্ডলীতে মঙ্গলের ভাব শুভ আছে সেই জাতক মুংগা রত্ন ধারণ করলে শুভ ফল পাবে । এই রত্নের বিশেষত্ব হল এই যে এ কেবল মঙ্গলের রশ্মিকে আরাে প্রভ বিত করে । যে ব্যক্তির জন্মকুন্ডলীতে মঙ্গল দূষিত বা প্রভাবহীন তার মুংগা ধারণ অবশ্য কর্তব্য ।

পান্না

পান্না বুধের রত্ন । যে ব্যক্তির জন্মকুণ্ডলীতে বুধের ভাব ভাল আছে তারও পান্না ধারণ কর্তব্য ।

পােখরাজ

পােখরাজ বৃহস্পতির রত্ন । অনেকে বলেন বৃহস্পতির রত্ন সাদা পােখরাজ বা হলুদ পােখরাজ । যদিও এ বিষয়ে সকলে একমত নন । তবে এর রং হলুদ হলেই ভালাে হয় । যে ব্যক্তির জন্মকুন্ডলীতে বৃহস্পতি উচ্চস্থানে আছে তার হলুদ পােখরাজ ধারণ করা লাভদায়ক ।

হীরা

হীরা শুক্রের রত্ন । যে ব্যক্তির জন্মকুন্ডলীতে শুক্রের স্থান শুভ তার হীরা ধারণ করা লাভদায়ক ।

নীলা

নীলা শনির রত্ন । যে জন্মকুন্ডলীতে শনির ভাব শুভ তার অবশ্যই নীলা ধারণ করা দরকার ।

গোমেদ

গোমেদ রত্নকে রাহুর রত্ন বলে মানা হয় । রাহু একটি ছায়া গ্রহ । এর কোন নিজস্ব রাশি নেই । যদি জন্মকুন্ডলীতে রাহুর লগ্ন চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম, নবম বা দশম ভাবে থাকে তবে গোমেদ ধারণ লাভদায়ক হবে ।

ক্যাটস-আই লহসুনিয়া

এটি কেতুর রত্ন । কিন্তু এটিও একটি ছায়া গ্রহ এবং এরও কোন নিজস্ব রাশি নেই । যদি জন্মকুণ্ডলীতে কেতু চতুর্থ, পঞ্চম, নবম, তৃতীয়, যষ্ঠ বা একাদশ ভাবে থাজে তবে এই রত্ন ধারণ করলে তা শুভ ফলদায়ক হয় ।

যদি কেতু দ্বিতীয়, সপ্তম, অষ্টম বা দ্বাদশ ভাবে থাকে তাহলে রত্ন ধারণ করা উচিৎ নয় ।

কেতুর রত্নের সাথে মানিক্য, মোতী, মুংগা বা হলুদ পোখরাজ ধারণ করা শুভ ফলদায়ক হয় না ।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)
To Top