জনার দেশপ্রেমের উপাখ্যান

0

জনার দেশপ্রেমের উপাখ্যান


জনার দেশপ্রেমের উপাখ্যান

জননী এবং জন্মভূমি সকলেরই শ্রদ্ধার বস্তু । জননীকে যেমন ভালবাসতে হয়,  তেমনি ভালবাসতে হয়। কথায় বলে, জননী এবং জন্মভূমি স্বর্গ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ । জননীর সেবা শুশ্রুষা সন্তানের কর্তব্য । জন্মভূমির কল্যাণ সাধনও দেশবাসীর পবিত্র দায়িত্ব । দেশের উন্নতির জন্য যারা কাজ করে, দেশকে যারা ভালবাসে, তারা দেশপ্রেমিক । নারী পুরুষ সবাই দেশের সেবা করতে পারে । মহাভারতের যুগেও দেখা যায় এক নারী দেশের সেবায় আত্মনিয়ােগ করেছিলেন । তাঁর নাম জনা ।

জনার স্বামীর নাম নীলধ্বজ । মাহিস্মতী দেশের রাজা ছিলেন তিনি । জনার ছেলের নাম প্রবীর ।

একবার পান্ডবরাজ যুধিষ্ঠির অশ্বমেধ যজ্ঞ আরম্ভ করলেন । তিনি যজ্ঞের অশ্ব ছেড়ে দিলেন। যজ্ঞের অশ্ব যে সব দেশ বিনা বাধায় ঘরে আসবে সে সব দেশ যজ্ঞকারী রাজার অধীন হবে । তবে অশ্বকে কেউ আটক করলে তার সঙ্গে যজ্ঞকারীর যুদ্ধ হবে । এটা ছিল অশ্বমেধ যজ্ঞের নিয়ম ।

পান্ডবদের যজ্ঞের অশ্ব বিভিন্ন দেশ অতিক্রম করছে । অনেক দেশ ঘুরে সেই অশ্ব এসেছে মাহিস্মতী রাজ্যে । এই রাজ্যের রাজপুত্র প্রবীর অশ্বটিকে আটক করল । এতে পান্ডবদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ বেধে গেল ।


রাজা নীলধ্বজ ছেলে প্রবীরকে যজ্ঞের অশ্ব ছেড়ে দিতে বললেন । কারণ পান্ডবরা খুবই শক্তিশালী । তাই তিনি পান্ডবদের বশ্যতা স্বীকার করতে প্রস্তুত । কিন্তু এ প্রস্তাবে বাধা দিলেন দেশপ্রেমিকা রানী জনা । তিনি দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য স্বামী ও পুত্রকে যুদ্ধ করতে উৎসাহ দেন । তিনি বলেন, যুদ্ধ না করে পরাজয় স্বীকার করা অধর্ম। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা অবশ্য কর্তব্য ।

রানী জনার কথায় রাজা নীলধ্বজ ও রাজপুত্র প্রবীর উৎসাহিত হলেন। পান্ডব সৈন্যদের সঙ্গে প্রচন্ড যুদ্ধ আরম্ভ হল । প্রবীরের বীরত্বে পান্ডবদের বহু সৈন্য মারা পড়ে। পান্ডবদের সেনাপতি ছিলেন বিখ্যাত বীর অর্জুন । তিনি প্রবীরের বীরত্বে মুগ্ধ হন । কিন্তু এক সময়ে অর্জুনের প্রচন্ড আক্রমণে প্রবীর মৃত্যু বরণ করেন ।


প্রবীরের মৃত্যু সংবাদে তাঁর মা জনা ব্যথিত হন । দুঃখ পান । তবে দুঃখের মধ্যেও তাঁর সান্ত্বনা ছিল । কারণ, তাঁর পুত্র বীরের ন্যায় যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তাঁর এ আত্মত্যাগ । সে তাে গৌরবের । অপরদিকে, প্রবীরের মৃত্যুতে পিতা নীলধ্বজ ভীত হয়ে পড়লেন । পান্ডবদের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ করার সাহস তাঁর হল না । তিনি বশ্যতা স্বীকার করে নিতে প্রস্তুত হলেন । এমন অবস্থায় জনা স্বামীকে পুনরায় যুদ্ধ করার জন্য উৎসাহ দিতে লাগলেন ।


তিনি বললেন, হে রাজা আপনি চিন্তা করে দেখুন । একদিকে পান্ডবদের আমাদের পুত্রকে হত্যা করেছে । অপরদিকে দেশের স্বাধীনতা হরণ করেছে । সুতরাং তারা আমাদের শত্রু; দেশের শুত্র । তাদের ক্ষমা করা যায় না । এদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে । আপনি কি ধর্মের কথা ভুলে গেছেন? দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যে যুদ্ধ, সে যুদ্ধ তাে ধর্মযুদ্ধ ।


আর এ ধর্মযুদ্ধ করলে পাপ হয় । ধর্মযুদ্ধে প্রাণ গেলে স্বর্গলাভ, আর জয়ী হলে রাজ্যলাভ । এ যুদ্ধ করার সুযােগ পাওয়া সৌভাগ্যের কথা । সুতরাং দেশ আক্রমণকারী ও পুত্রহত্যাকারীর নিকট বশ্যতা স্বীকার করবেন না । অর্জুনকে হত্যা করে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করুন। পুত্র হত্যার প্রতিশােধ নিন ।” একথা বলে জনা স্বামী নীলধ্বজকে যুদ্ধ করতে অনুরােধ জানালেন ।

কিন্তু জনার উৎসাহপূর্ণ বাক্য শুনেও নীলধ্বজের যুদ্ধ করার সাহস হল না । তিনি পান্ডবদের বশ্যতা স্বীকার করলেন ।


আরও পড়ুন :

ধর্ম শব্দের অর্থ কি? ধর্ম কাকে বলে? ধর্ম নিয়ে কিছু কথা

হিন্দুধর্মের বাণী

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)
To Top