রামনবমী কি এবং কেন পালন করা হয় ?

0

রামনবমী কি এবং কেন পালন করা হয় ?

Table Of Content (toc)

রামনবমী কি এবং কেন পালন করা হয় ?

নতুন বছরে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথি অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ রাম নবমী উৎসব পালিত হবে । এই দিনে, রাম মন্দিরে ভজন, কীর্তন অনুষ্ঠিত হয় এবং গ্রামে ও শহরে শোভাযাত্রা বের করা হয় । সনাতন ধর্মের লোকদের কাছে এই উৎসবের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে । এটি সারা বাংলাদেশ ও ভারতে উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়, তবে রাম জন্মভূমি অযোধ্যায় এই উত্সবের মহাত্ম্যই আলাদা ।

রাম নবমী ২০২৩ মুহূর্ত

পক্ষ - শুক্লপক্ষ
তিথি- নবমী
তারিখ – ২৯ মার্চ ২০২৩ থেকে ৩০ মার্চ ২০২৩
তিথি শুরু - ২৯ মার্চ ২০২৩ রাত ০৯.০৭
তিথি শেষ - ৩০ মার্চ ২০২৩ সকাল ১১.৩০ এ
রামনবমী মধ্যাহ্ন মুহূর্ত - ৩০ মার্চ ২০২৩ সকাল ১১.১৭ থেকে দুপুর ১.৪৬ পর্যন্ত

সময়কাল -০২ ঘন্টা ২৮ মিনিট

রামনবমী কেন পালন করা হয় ?

ভগবান রামের জণ্মদিনটি রাম নবমী উৎসব রূপে পালন করা হয় । এটি হিন্দু উৎসব । রাম ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার।এই উৎসবটি চৈত্র মাসে নবম দিনে পালিত হয় । এটি সাধারণত মার্চ বা এপ্রিল মাসের মধ্যে ঘটে থাকে । ত্রেতা যুগে ভগবান বিষ্ণু রাম অবতার রূপে অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রাণী কৌশল্যার পুত্র রূপে জন্মগ্রহণ করেন। ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন হিন্দু গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থেও ভগবান রামের উল্লেখ আছে । এই উৎসবের দিনে মন্দ শক্তিকে পরাজিত করে ভালোর প্রতিষ্ঠা করা হয়, অর্ধমকে নিক্ষেপ করে ধর্মের প্রতিষ্ঠা করা হয় ।

এই উৎসবের দিন সকালে হিন্দুদের আদি দেবতা সূর্য দেবকে জল প্রদান করে, সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সূর্য দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয় । রাম নবমী উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন । সমগ্র দিনজুড়ে ভক্তিমূলক গান গাওয়া বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় বইগুলি থেকে পাঠ করে শোনাবার কথা বলা হয় । এই দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে, রাম কাহিনী পড়ে দিনটি পালন করা হয় । অনেকে মন্দিরে যান, অনেকে বাড়িতে রামের মূর্তিতে পূজা করেন। ভগবান রাম কে ছিলেন ? প্রাচীন ভারতের হিন্দু ধর্মগ্রন্থের মতে যুগ যুগ ধরে ভগবান বিষ্ণু এ বিশ্ব সংসারের পালক । বিভিন্ন যুগে তিনি নানা অবতার রূপে আমাদের ধরিত্রী তে অবতরণ করেন, বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতার ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতে শিখিয়েছেন । ত্রেতা যুগে রাম জণ্মেছিলেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার রূপে জণ্মেছিলেন ।

অর্থাৎ রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল অধর্মকে নিক্ষেপ করে ধর্মকে স্থাপন করা । মন্দ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির সূচনা করা ।

রাম নবমীর তাৎপর্য

পুরাণ বলে রমন্তে সর্বত্র ইতি রামঃ যার অর্থ হল রাম যিনি সর্বত্র বিরাজ করেন । হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, মহাবিশ্বের রক্ষক ভগবান বিষ্ণু ধর্মের ক্ষতি রোধ করতে অযোধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠ পুত্র শ্রী রাম রূপে অবতীর্ণ হন । এটা বিশ্বাস করা হয় যে রাম নবমীতে মর্যাদার প্রতিমূর্তি ভগবান রামের পুজো করলে খ্যাতি এবং সৌভাগ্য আসে । জীবনে সর্বদা সুখ এবং সমৃদ্ধি থাকে । ভগবান রামের উপাসনা করলে জীবনে ইতিবাচকতা বজায় থাকে এবং সমস্ত কাজ বিনা বাধায় সম্পন্ন হয় ।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)
To Top