সরস্বতী পূজা কি এবং কেন করা হয় ?

0

সরস্বতী পূজা কি এবং কেন করা হয় ?

Table Of Content (toc)

সরস্বতী পূজা কি ও কেন করা হয় ?

কোনও হিন্দুকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, দেবী সরস্বতী কে ? বলবে, জ্ঞানের দেবী, বিদ্যার দেবী । আর ? আর কোনও তথ্য তার কাছে নেই । এরপর হয়তো দু’চার জন হিন্দু বলবে যে, সরস্বতী ব্রহ্মার স্ত্রী । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মার স্ত্রী বলে কিছু নেই বা কিছু হয় না ।

দেবী সরস্বতী কে ?

পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বরের সৃষ্টিকারী রূপের নাম ব্রহ্মা,আর ব্রহ্মার নারী শক্তির নাম সরস্বতী । এর মানে হলো সরস্বতীই ব্রহ্মা, আর ব্রহ্মা মানেই পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বর ! অর্থাৎ সরস্বতীই পরমেশ্বর বা ঈশ্বর । অনেকেই সরস্বতীকে ছোটো দেবী হিসেবে মনে করে । প্রকৃতপক্ষে দেব-দেবীদের মধ্যে ছোট বা বড় বলে কিছু নেই । সব দেব-দেবীই সমান; সুতরাং সরস্বতী, ঈশ্বরেরই একটা রূপের নাম । স্ত্রীলিঙ্গে স্বয়ং ঈশ্বরীরূপে সরস্বতীই পরমব্রহ্ম বা ঈশ্বর ।

এখানেঃ সরস্বতী পূজা পদ্ধতি pdf ডাউনলোড করুন

সরস্বতীর গায়ের রং সাদা কেন ?

দেবী সরস্বতীর শুভ্রমূর্তি নিষ্কলুষ চরিত্রের প্রতীক! এটা এই শিক্ষা দেয় যে ! প্রত্যেক ছেলে মেয়েকে হতে হবে, নিষ্কলুষ নির্মল চরিত্রের অধিকারী । যে ছেলে মেয়ে বাল্যকাল থেকে নিজেকে নিষ্কলুষ রাখার চেষ্টা করবে ।সে যে সারাজীবন তার সকল কর্ম ও চিন্তায় নিজেকে নিষ্কলুষ রাখতে পারবে । তাতে তো আর কোনও সন্দেহ নেই ।

সরস্বতীর সাথে রাজহাঁস থাকে কেন ?

রাজহাসেঁর মধ্যে এমন ক্ষমতা আছে যে ! এক পাত্রে থাকা জল মিশ্রিত দুধের থেকে, সে শুধুমাত্র দুধ শুষে নিতে পারে । সরস্বতী যেহেতু শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট পূজা,সেই প্রেক্ষাপটে এটা বলা যেতে পারে যে । রাজহাসেঁর এই তথ্য শিক্ষার্থীদেরকে এই শিক্ষা দেয় যে । সমাজে ভালো মন্দ সব কিছুই থাকবে । তার মধ্যে থেকে তোমাদেরকে শুধু,ভালোটুকু শুষে নিতে হবে । অধিকাংশ হিন্দু ছেলে-মেয়েরা যে মেধাবী এবং চরিত্রবান বা চরিত্রবতী ।সরস্বতী পূজা এবং তার রাজহাঁস জনিত এই শিক্ষাই তার কারণ ।

আরো জানুনঃ সরস্বতী পূজার আগে কুল খেতে নেই কেন ?

সরস্বতীর হাতে বীণা থাকে কেন ?

এর কারণ হচ্ছে-হিন্দু ধর্ম হলো নাচ, গান সমৃদ্ধ শিল্পকলার ধর্ম । যা সামাজিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণভাবে সাপোর্ট করে । কারণ, প্রত্যেক ছেলে মেয়েই কোনও না কোনও  প্তিভা নিয়ে জন্মগ্রহন করে । প্রকৃতির ধর্ম হিসেবে হিন্দুধর্ম এই সামাজিক বাস্তবতাকে স্বীকার করে।এই কারণেই দেবী সরস্বতীর হাতের বীণা হচ্ছে সেই শিল্পকলার প্রতীক । আর এটা সুধীজন স্বীকৃত যে, যারা- নাচ, গান, কবিতা লেখা বা নাট্যচর্চার মতো শিল্পকলার সাথে জড়িত । তারা সাধারণত কখনও  মিথ্যাও বলে না ! চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ তো দূরের ব্যাপার । সাধারণভাবে সকল হিন্দুই যে সৎ প্রকৃতির এবং প্রত্যেক হিন্দু ছেলে মেয়েই যে শিল্পকলার কিছু না কিছু না জানে।এটাই তার অন্যতম কারণ !

সরস্বতীর হাতে পুস্তক থাকে কেন ?

পুস্তক হলো জ্ঞানের ভাণ্ডার বা জ্ঞানের বাস হলো পুস্তকে । যেহেতু সরস্বতী হলো জ্ঞানের দেবী,তাই তার হাতে থাকে পুস্তক বা পূজায় পাঠ্যপুস্তক দিতে হয়। পৃথিবীতে হিন্দুরাই একমাত্র জাতি যারা, জ্ঞানার্জনের জন্য পূজা প্রার্থনা করে । একারণেই হিন্দুরা একটি জ্ঞান পিপাসু এবং জ্ঞান সমৃদ্ধ জাতি । এখনও যে কোনও স্কুলে যে কয়জন হিন্দু ছাত্র ছাত্রী পাওয়া যাবে । দেখা যাবে তাদের মধ্যে ৯০% ই জিনিয়াস ।


সরস্বতীর দুই হাত না চার হাত ?

বর্তমানে দেবী সরস্বতীকে দুই হাত বিশিষ্ট দেখা গেলেও দেবী সরস্বতীর মূল মূর্তি আসলে চার হাত বিশিষ্ট ।এরকম ছবি আপনারা অনেকে জায়গায় দেখলেও দেখে থাকতে পারেন । সরস্বতীর মূল থিমের সাথে এই চার হাতই মানানসই । কারণ হলো- পড়াশুনার পাশাপাশি কেউ যদি নাচ গান বা অন্য যে কোনও শিল্পকলায় এক্সপার্ট হতে চায় । তাকে দুই হাতের শক্তি ও ব্যস্ততা নিয়ে কাজ করলে চলবে না । তাকে চার হাতের শক্তি ও ব্যস্ততা নিয়ে কাজ করত হবে ।

সরস্বতীর আসন, রাজহাঁস, নাকি পদ্মফুল ?

অনেক কাঠামোতে দেখা যায়, সরস্বতী দেবী হাঁসের উপর বসে আছে । আবার কোনও কাঠামোয় দেখা যায় পদ্মফুলের উপর  ! পদ্মফুলের উপর সরস্বতীর আসনই সঠিক আসন । এর কারণ- পূর্ণ প্রস্ফুটিত পদ্মফুল হলো সফল ও সমৃদ্ধ জীবনের প্রতীক । এই কারণেই লেখা হয়েছে- “ফুলের মতো গড়বো মোরা মোদের এই জীবন” এই ধরণের কবিতা । এককথায় ফুলের বিকাশের সাথে মানুষের জীবনের বিকাশকে তুলনা করা হয়েছে । পূর্ণ বিকশিত একটি পদ্মফুলের উপর সরস্বতীর বসে থাকার মানে হলো । সরস্বতীর আদর্শকে লালন করে নিজের জীবনকে বিকশিত করতে পারলে । সেই জীবনও ফুলের মতোই পবিত্র, সুন্দর, বিকশিত ও সমৃদ্ধ হবে ।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
Post a Comment (0)
To Top