মহাভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা কে ছিলেন ?

4
মহাভারতের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা কে ছিলেন ?

Table of Content (toc)

মহাভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা কে ?

নিঃসন্দেহে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ!! কারণ তিনি স্বয়ং পরমব্রহ্ম ছিলেন । তাই তাকে এই তালিকায় রাখা হয়নি ।

মহাভারত হিন্দুধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ । এই গ্রন্থে মূলত ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে । কিন্তু এই গ্রন্থকে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা পঞ্চম বেদ আখ্যা দিয়ে ধর্মগ্রন্থ হিসেবে গ্রহণ করেছে । এই গ্রন্থের মূল-প্ররিক্রমা হচ্ছে ১৮ দিনব্যাপী ঘটে যাওয়া কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ । এই যুদ্ধে মহাশক্তিশালী রথী-মহারথীরা যুদ্ধ করেছিলেন । আর তাদের মধ্যে এমন এমন সব যোদ্ধাগণও ছিলেন যারা এক বাণে পৃথিবী ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখতেন!

কিন্তু এরই মধ্যে একটা প্রশ্ন থেকেই যায় । মহাভারতের ইতিহাসে সবথেকে শক্তিশালী যোদ্ধা কে ? এই প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করব আজকে ।

মহাভারতের শীর্ষ ১০ জন শক্তিশালী যোদ্ধা

কর্ণ ও অর্জুনকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই । কিছু মানুষ মনে করেন অর্জুন শ্রেষ্ঠ । আবার কিছু মানুষ টিভি সিরিয়াল দেখে কর্ণকে অধিক শক্তিশালী বলে আখ্যায়িত করেন । তবে অর্জুনের সাথে কর্ণের যে কয়েকবার যুদ্ধ হয়েছিল তার মধ্যে কর্ণ একটি যুদ্ধেও জয়লাভ করেননি ? এ নিয়ে আমাদের বিস্তারিত একটি লেখা রয়েছে । সময় পেলে পড়ে নিতে পারেন ।

অর্জুন নাকি কর্ণ ? কে শ্রেষ্ঠ ? যুক্তিযুক্ত বিচার

১.অর্জুন

দেবরাজ ইন্দ্রের বরপুত্র । মহাভারতের ইতিহাসে এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীরন্দাজ ছিলেন অর্জুন । ভগবান শিবের সঙ্গেও দ্বন্দ্বযুদ্ধ করেছিলেন এই অব্যর্থ ধনুর্বিদ । দ্রোণের নিকট অস্ত্রশিক্ষাকালে তিনি অত্যন্ত অল্পবয়েসেই ব্রহ্মাস্ত্র ধারণ করার যোগ্য হয়েছিলেন । দ্রোণাচার্য যখন গুরুদক্ষিণা হিসেবে দ্রুপদের বন্দিত্ত্ব চান, তখন মূলত অর্জুনের বীরত্ত্বেই তা সম্ভব হয়েছিল । কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয়দ্রথ, সুশমা ও কর্ণের মতো বহু মহাশক্তিশালী যোদ্ধাদের পরাজিত করেছিলেন তিনি । বিরাট যুদ্ধে তিনি একাই ভীষ্ম, কর্ণ, দ্রোণাচার্য, কৃপাচার্য, অশ্বত্থামা, দুঃশাসনসহ পুরো কৌরব সেনাকে পরাজিত করেছিলেন । মহাভারতে অর্জুনের মতো তেজ কোনো যোদ্ধারই ছিলো না ।

২.ভীষ্ম

গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম ছিলেন শৌর্যে, বীর্যে অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব । ইনিই ছিলেন সেই মহাবলী যোদ্ধা যার সাথে মহাভারতের অন্য কোনো যোদ্ধার তুলনা করা যায় না । তিনি তার অস্ত্রগুরু King Of Martial Art খ্যাত পরশুরামকে পর্যন্ত যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন । যুদ্ধবিদ্যা হোক বা ধর্ম, সবদিক দিয়ে পরিপূর্ণ ছিলেন পিতামহ ভীষ্ম । তার কারণেই কুরুবংশ ও রাজ্যের উপর অন্য কোন রাজাগণ আক্রমণ করতে সাহস করতো না । তিনি ছিলেন কুরুবংশের এক অতন্দ্র প্রহরী (রক্ষাকারী) । কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি তার ব্যক্তিধর্ম রক্ষা হেতু কৌরব পক্ষ অবলম্বন করে দশদিন যুদ্ধ করেন । এই দশদিনে তিনি পান্ডব পক্ষের প্রায় অর্ধেক সেনা নিধন করে ফেলেন । তাকে বধ করার জন্য অর্জুনের বীরত্বও যথেষ্ট ছিল না । এর সাথে পিতার দেওয়া ইচ্ছামৃত্যুর বরদানের জন্য তার ক্ষমতার কোন শেষ ছিল না । যুদ্ধের দ্বাদশতম দিনে শিখন্ডীকে সম্মুখে রেখে অর্জুন ভীষ্মকে শরশয্যা প্রদান করেন । ভীষ্মকে যুদ্ধ থেকে না সরালে পান্ডব পক্ষ কখনোই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হতো না । অর্জুনের নিকট অবশ্য তিনি পরাস্ত হয়েছেন বহুবার । তবে যুবক বয়েসে যদি অর্জুনের সাথে তার যুদ্ধ হতো তাহলে তিনি অবশ্যই সমানে সমান যুদ্ধ করতেন । তিনি বৃদ্ধ বয়েসে কুরুক্ষেত্রে যে ভয়ানক যুদ্ধ করেছেন তা থেকেই তার ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায় ।

৩.দ্রোণাচার্য

ভরদ্বাজ মুনির পুত্র । পরশুরামের কাছ থেকে শেখেন ধনুর্বিদ্যা । কৌরব ও পান্ডবদের অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য ছিলেন এক মহাক্ষমতাশালী মহারথী । তিনি পরশুরামের নিকট একাধিক দিব্যাস্ত্র লাভ করেছিলেন । পিতামহ ভীষ্মের পর কৌরব পক্ষের সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই যোদ্ধা । তার রচিত চক্রব্যুহের জন্যই অভিমন্যুর মতো মহাবীরের বধ সম্ভব হয়েছিল ।

৪.কর্ণ

সূর্যদেবের মানসপুত্র । সম্পর্কে ছিলেন পান্ডবদের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা । পরশুরামের নিকট অস্ত্রবিদ্যা লাভ করেন তিনি । কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি কৌরব পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন । প্রায় সমস্তরকম দিব্য অস্ত্র চালানোর ability ছিল তার মধ্যে । তার নিকট সুর্যদেবের দেওয়া কবচ ও কুন্ডল ছিল । যা ব্রহ্মাস্ত্রকেও গিলে ফেলার ক্ষমতা রাখতো । কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে ভগবান ইন্দ্র এক ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করে কর্ণের নিকট থেকে কবচ ও কুন্ডল দান হিসেবে চেয়েছিলেন । মহাভারতে কথিত আছে তিনি জরাসন্ধকেও মল্যযুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন ।


৫.ভীম

দ্বিতীয় পান্ডব ভীম ছিলেন বিশাল দেহ ও প্রবল শক্তির জন্যে বিখ্যাত । তার শরীরে এক সহস্র (১০০০০) হাতির শক্তি ছিল । বনবাসে থাকাকালীন তিনি জরাসন্ধ ও কীচকসহ মহাপরাক্রমশালী বহু রাক্ষসকে বধ করেছিলেন । কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি দুর্যোধনসহ ধৃতরাষ্ট্রের বাকি ৯৯ জন পুত্রকে হত্যা করেছিলেন ।

৬.অভিমন্যু

অর্জুন এবং সুভদ্রার পুত্র । মহাভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী মহারথী ছিলেন অভিমন্যু । অভিমন্যু একাই কৌরব পক্ষের সাত মহাবীর যোদ্ধার (কর্ণ, দ্রোণ, দুর্যোধন, অশ্বত্থামা, দুঃশাসন, শকুনি, কৃপাচার্য) মোকাবিলা করেছিলেন ।


৭.ঘটোৎকচ

ভীম ও হিড়িম্বার পুত্র ঘটোৎকচ ছিলেন মায়াবী রাক্ষস । কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ৩য় দিনে তিনি দুর্যোধনকে দৈরথ যোদ্ধে পরাজিত করেছিলেন । আর ১৪ তম দিনে তিনি দুর্যোধন ও কর্ণের অবস্থা প্রায় নাজেহাল করে দিয়েছিলেন । বহু দিব্যাস্ত্র প্রয়োগ করেও কর্ণ সেদিন ঘটোৎকচকে বধ করতে পারছিলেন না । অবশেষে উপায় না দেখে তিনি ইন্দ্রের দেওয়া একাঘ্নী অস্থ প্রয়োগ করেছিলেন । যেটা তিনি অর্জুনকে বধ করার জন্য রেখেছিলেন । একাঘ্নী অস্ত্রের আঘাতেই ঘটোৎকচকে বধ করা সম্ভব হয়েছিল । সুতরাং এ কথা বলাই যায় সেই রাতে কর্ণ যদি ঘটোৎকচকে বধ করতে না পারতেন তাহলে কৌরব পক্ষীয় বহু রথী-মহারথী তার হাতে মারা পড়ত ।

৮.অশ্বত্থামা

অশ্বত্থামা ছিলেন দ্রোণাচার্যের পুত্র । সীমাহীন শক্তির অধিকারী ছিলেন এই মহারথী । তার কাছে ব্রহ্মাস্ত্র, ব্রহ্মশীর ও নারায়ন অস্ত্র নামক তিনটি মহাশক্তিশালী বাণ ছিল । যার কারণে তার পরাজয় প্রায় অসম্ভব ছিল । কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ১৫ তম দিনে তিনি পান্ডবপক্ষীয় সমস্থ যোদ্ধাদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে নারায়ণ অস্ত্র নিক্ষেপ করেন । এই অস্ত্রটির বিশেষত্ব হলো যার হাতে অস্ত্র থাকবে এই অস্ত্র তাকেই বধ করবে । এই বাণের প্রয়োগ করে তিনি পান্ডবপক্ষীয় সমস্ত যোদ্ধাদের অস্ত্র ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন ।


৯.দুর্যোধন

ধৃতরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন দুর্যোধন । এই দুর্যোধন ছিলেন ভয়ানক শক্তিশালী । স্বয়ং বলরামের নিকট গদাযুদ্ধ শিখেছিলেন তিনি । তিনি গদাযুদ্ধে এতটাই পারদর্শী ছিলেন যে তাকে (গদাযুদ্ধে) পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার ছিল । তিনি তার সবথেকে বড় শত্রু ছিল ভীম । আর শেষ পর্যন্ত ভীমসেনের হাতেই তার মৃত্যু হয়েছিল ।


১০.ভগদত্ত

দুর্যোধনের শ্বশুর । ভানুমতীর পিতা । মহাভারতের যুগে ভগদত্ত ছিলেন প্রাগজ্যোতিষপুরের রাজা, নরকাশুরের পুত্র এবং সম্পর্কে দূর্যোধনের শ্বশুর । মহারথী ছিলেন তিনি । যুদ্ধে হাতীর পিঠে চড়ে শত্রুদের উপর ত্রাসের সঞ্চার করতেন এই যোদ্ধা । কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি অর্জুনের উপর অপ্রতিরোধ্য বৈষ্ণব অস্ত্র নিক্ষেপ করেছিলেন । এই অস্ত্রের বিশেষত্ব হলো এর আঘাত কেবল ভগবান বিষ্ণুই সহ্য করতে পারেন । ভগদত্ত এই অস্ত্রের অপ-ব্যবহার করেছিলেন বলে এটি নিজের নিকট গ্রহণ করেছলেন । উল্লেখ্য যে অর্জুনের নিকটও বৈষ্ণব অস্ত্র ছিলো ।

আরও পড়ুন :

রথী ও মহারথীর মধ্যে পার্থক্য

মহাভারতের অমীমাংসিত রহস্য

মহাভারত বাংলায় কে অনুবাদ করেন ?

প্রাচীনকালে হিন্দু ঋষি ও ব্রাহ্মণরা কি মাংস খেতেন ? শাস্ত্র কি বলে ?

মহাভারতের রচনাকাল

ছোটদের মহাভারত pdf ডাউনলোড করুন

বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ সেলিব্রিটি যারা হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেছেন

রথী ও মহারথীর মধ্যে পার্থক্য

মনুসংহিতা pdf ডাউনলোড করুন

Post a Comment

4 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
  1. বর্বরিক কোথায়?

    ReplyDelete
    Replies
    1. কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছিল তাদের নামগুলোই এই তালিকায় স্থান পেয়েছে । বর্বরিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি

      Delete
Post a Comment
To Top